হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বিথঙ্গল আখড়া

0
35

বিথংগল গ্রামের প্রাচীন বিথাঙ্গল আখড়া  ( bithongol akhra )

সিলেট বিভাগে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুব একটা অবশিষ্ট নেই। বিভিন্ন কালের স্থাপত্যরীতির ঐতিহ্যময় তেমন কোন স্থাপনা সিলেটের ভূতাত্ত্বিক আবহাওয়ার কারণে টিকে থাকেনি। এরপরও যৎসামান্য অবশিষ্ট আছে তাও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের মুখোমুখি।হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার হাওড় এলাকার অন্যতম সেরা আকর্ষণ বিথংগল গ্রামের প্রাচীন বিথাঙ্গল আখড়াটি ( bithongol akhra ) এমন একটি ঐতিহ্যময় স্থাপনা। রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে এই অসাধারণ সৌন্দর্য মণ্ডিত বিথঙ্গল আখড়া আজ ধ্বংসের সম্মুখীন। বর্ষাকালে হবিগঞ্জের রত্না ঘাট থেকে অথবা কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন, তাড়াইল, অষ্টগ্রাম, নিকলী, বাজিতপুর হতে ইঞ্জিন নৌকাযোগে দেড় ঘণ্টায় থেকে দুই ঘন্টায় বিথংগল পৌঁছার সহজ ব্যবস্থা রয়েছে। তবে শুকনো মৌসুমে আখড়ায় যাওয়া অনেকটা দুষ্কর।

বিথাঙ্গল বড় আখড়া বিতঙ্গল আখড়া ( bithongol akhra ) নামেও পরিচিত । বিতঙ্গল আখড়া হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলাতে অবস্থিত । এটি বৈষ্ণব ধর্ম-অবলম্বীদের জন্য একটি অন্যতম তীর্থস্থান । এটি ষোড়শ শতাব্দীর দিকে নির্মিত একটি আখড়া । এটি নির্মাণ করেছেন রামকৃষ্ণ গোস্বামী । বর্তমানে এটি মধ্যযুগীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত পর্যটকদের জন্য একটি অনন্য দর্শনীয় স্থান ।

বিথাঙ্গল বড় আখড়া ( bithongol akhra )  বৈষ্ণব্ধর্মালম্বীদের জন্য একটি অন্যতম তীর্থস্থান । এটি বানিয়াচং উপজেলা সদর হতে প্রায় ১২ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে বিতঙ্গল গ্রাম অবস্থিত। এই আখড়ার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রামকৃষ্ণ গোস্বামী । রামকৃষ্ণ গোস্বামী তৎকালীন এই উপমহাদেশের বিভিন্ন তীর্থস্থান ভ্রমন করেন । পরে ষোড়শ শতাব্দীতে এই স্থানে তিনি আখড়া প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । এই আখড়াতে ১২০ জন বৈষ্ণবের ব্যাবহারের জন্য মোট ১২০ টি কক্ষ রয়েছে। মঠের সামনে একটি নাট মন্দির এবং পূর্ব পার্শ্ববর্তী একটি ভাণ্ডার ঘর এবং দক্ষিণে একটি ভোগ মন্দির রয়েছে।সরকারি অর্থানুকূল্যে আখড়াটি সংস্কারের যে কাজ করা হয়েছে তা অপ্রতুল ও নিম্নমানের। বিশেষ করে সংস্কারকালে আখড়ার প্রাচীন সৌন্দর্য রক্ষার কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে আখড়ার ঐতিহাসিক গুরুত্ব হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিথাঙ্গল আখড়ায় ( bithongol akhra ) পালিত উৎসবাদির মধ্যে আছে কার্তিক মাসের শেষ দিন ভোলা সংক্রান্তি কীর্তন, ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দোল পূর্ণিমার ৫ দিন পর পঞ্চম দোল উৎসব। চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে ভেড়ামোহনা নদীর ঘাটে ভক্তগণ স্নান করেন। স্নানঘাটে বারনীর মেলা ও আষাঢ় মাসে ২য় রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এ আখড়াটি ঘিরে কার্তিক মাসের শেষ দিন ভোলা সংক্রান্তি উপলক্ষে কীর্ত্তণ হয়। ফাল্গুন মাসের পুর্ণিমা তিথিতে দোল পূর্ণিমার পাঁচ দিন পর পঞ্চম দোল উৎসব উদযাপিত হয়। চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে ভেড়া মোহনা নদীর ঘাটে ভক্তগণ পূণ্য্লান করেন এবং স্নানঘাটে বারুনী মেলা বসে। এ ছাড়া আষাঢ় মাসের ২য় সপ্তাহে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। আখড়ার প্রতিটি উৎসবে ৫ থেকে ১০ হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। প্রতিটি উৎসবে হাজার হাজার ভক্ত যোগদান করেন। আখড়ায় অনেক দর্শনীয় বস্তুর মধ্যে রয়েছে ২৫ মণ ওজনের শ্বেত পাথরের চৌকি, পিতলের সিংহাসন, রথ, রৌপ্য নির্মিত পাখি, মুকুট ইত্যাদি।

বিথাঙ্গল আখড়ার বর্তমান মোহনত্দ সুকুমার দাস জানান, আখড়ার নিজস্ব ৪০ একর জমির উৎপাদিত ফসল ও ভক্তদের দানে যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ হয়। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে এলাকাবাসী প্রতিদিন রোগবালাই হতে পরিত্রাণের জন্য আখড়ায় এসে মোহনত্দের নিকট হতে আশীর্বাদ নিয়ে যায়।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে বাস যায় হবিগঞ্জের দিকে। এর মধ্যে অগ্রদূত, দিগন্ত, বিসমিল্লাহ পরিবহন উল্লেখযোগ্য। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু করে আধা ঘণ্টা-এক ঘণ্টা পরপর বাস ছেড়ে যায়। দিনের শেষ বাসটি ছাড়ে সন্ধ্যা ৭টায়। হবিগঞ্জ শহরে নেমে সেখান থেকে কালাডুবা ঘাট যাওয়ার জন্য ম্যাক্সিতে উঠতে হবে। এই ঘাট থেকে বিথঙ্গল যাওয়ার ট্রলার ভাড়া করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ছয়-সাতজনের একটা দল গেলে খরচ অনেক কম লাগবে।

বিথাঙ্গল আখড়ার কিছু ছবি 

বিঃদ্রঃ এখানে দেওয়া সকল তথ্য ইন্টারনেট এর বিভিন্ন তথ্যমূলক ওয়েবসাইট ও স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে সংগ্রহ করে দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো তথ্যে ভুল থাকে তাহলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সঠিক তথ্য দিয়ে ভুল টা সংশোধন করার জন্য আমাদের সাহায্য করবেন এবং এই তথ্য টি পরে যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে তথ্যটি শেয়ার করবেন ।

তথ্যসূত্র:
স্থানীয় লোকজন
https://bn.wikipedia.org

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here