লালমনিরহাট জেলার পরিচিতি

0
53

লালমনিরহাট জেলা ( lalmonirhat ) বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। লালমনিরহাট ( About lalmonirhat ) জেলার উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণে রংপুর জেলা ও কুড়িগ্রাম জেলা, পূর্বে কুড়িগ্রাম জেলা এবং পশ্চিমে নীলফামারী জেলা অবস্থিত।

লালমনিরহাট জেলার পটভূমি ( lalmonirhat )

১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১লা ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন সমাজ কল্যাণ ও মহিলা বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী) ডঃ শাফিয়া খাতুন কর্তৃক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে লালমনিরহাট মহকুমা ‘জেলা’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরে ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ মার্চ লালমনিরহাট সদর থানা ‘উপজেলা’ হিসেবে ঘোষিত হয়। ফলে লালমনিরহাট জেলার অধীনে উপজেলার সংখ্যা দাড়ায় – ৫টি; পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী এবং লালমনিরহাট সদর। এসময় লালমনিরহাট সদর থানার ছিনাই, রাজারহাট এবং ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন পাশ্ববর্তী কুড়িগ্রাম জেলার সাথে যুক্ত হলে নবগঠিত লালমনিরহাট জেলায় ইউনিয়নের সংখ্যা দাড়ায় ৪১টি এবং পৌরসভার সংখ্যা ১টি। তাছাড়া লালমনিরহাট সদর উপজেলার আয়তন দাড়ায় ১০৪ বর্গমাইল।

১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল পাটগ্রাম উপজেলার একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন হিসেবে পরিগণিত হয় এবং ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ আগস্ট এখানে ইউনিয়ন পরিষদের শুভ উদ্বোধন ঘটে, ফলে লালমনিরহাট জেলায় ইউনিয়ন সংখ্যা দাড়ায় ৪২টি। ডায়াবেটিক সমিতি, লালমনিরহাট এর সাবেক কার্যালয়ের স্থলে ছিল জেলা প্রশাসকের প্রথম কার্যালয়। ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দের শেষের দিকে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয় স্থানান্তরিত হয় বর্তমান মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজের স্থলে। ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে আবার তা স্থানান্তরিত হয়ে বর্তমান স্থানে চলে আসে।

১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ জানুয়ারি বিদ্যমান জেলা প্রশাসকের কার্যালয় তথা কালেক্টরেট ভবনের উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট  লে. জে. এইচ. এম. এরশাদ।

লালমনিরহাট জেলারভৌগলিক পরিচিতি

লালমনিরহাট (lalmonirhat) বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত সীমান্তবর্তী একটি জেলা। ২৫.৪৮ ডিগ্রি থেকে ২৬.২৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮.৩৮ ডিগ্রি থেকে ৮৯.৩৬ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে জেলাটির অবস্থান। এ জেলার উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলা, দক্ষিণে রংপুর জেলা, পূর্বে কুড়িগ্রাম ও ভারতের কোচবিহার জেলা এবং পশ্চিমে রংপুর ও নীলফামারী জেলা। এ জেলার উত্তরে ধরলা নদী ও দক্ষিনে তিস্তা নদী প্রবাহিত।

লালমনিরহাট (lalmonirhat) জেলার ৫টি উপজেলার ভৌগলিক অবস্থান নিম্নরূপ-

উপজেলার নাম আয়তন অবস্থান
লালমনিরহাট সদর ২৫৯.৫৪ বর্গ কিমি উত্তরে ভারতের কোচবিহার জেলা ও লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা, দক্ষিনে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা ও কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা, পূর্বে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা ও রাজারহাট উপজেলা এবং পশ্চিমে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা ও রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা।
আদিতমারী ১৯০.০৩ বর্গ কিমি উত্তরে ভারতের কোচবিহার জেলা, দক্ষিনে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা, পূর্বে লালমনিরহাট সদর উপজেলা এবং পশ্চিমে কালীগঞ্জ উপজেলা।
কালীগঞ্জ ২৩৬.৯৬ বর্গ কিমি উত্তরে ভারতের কোচবিহার জেলা ও লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা, দক্ষিনে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা ও নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলা, পূর্বে আদিতমারী উপজেলা এবং পশ্চিমে নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলা।
হাতীবান্ধা ২৮৮.৪২ বর্গ কিমি উত্তরে ভারতের কোচবিহার জেলা ও লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা, দক্ষিনে কালীগঞ্জ উপজেলা, পূর্বে ভারতের কোচবিহার জেলা এবং পশ্চিমে নীলফামারী জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলা।
পাটগ্রাম ২৬১.৫১ বর্গ কিমি পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তরে ভারতের কোচবিহার জেলা এবং দক্ষিনে ভারতের কোচবিহার জেলা ও লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলা।

লালমনিরহাট জেলার তথ্যাবলী

জনসংখ্যা ক) পুরুষ  : ৬২৮,৭৯৯ জন

খ) মহিলা  : ৬২৭,৩০০ জন

গ) মোট   : ১২,৫৬,০৯৯ জন

শিক্ষার হার ৪৬.০৯%
উপজেলার সংখ্যা ৫টি
থানার সংখ্যা ৫টি
পৌরসভার সংখ্যা ২টি
ইউনিয়নের সংখ্যা ৪৫টি
মৌজার সংখ্যা ৩৫৪টি
গ্রামের সংখ্যা ৪৭৮টি
নদীর সংখ্যা ৬টি

লালমনিরহাট জেলার প্রশাসনিক এলাকাসমূহ

লালমনিরহাট (lalmonirhat) জেলায় ৫টি উপজেলা রয়েছে; এগুলো হলোঃ

  • আদিতমারী
  • কালীগঞ্জ
  • পাটগ্রাম
  • লালমনিরহাট সদর
  • হাতীবান্ধা

about lalmonirhat

লালমনিরহাট জেলার অভ্যন্তরীণ মানচিত্র

লালমনিরহাট সদর উপজেলার ইউনিয়নের নাম :
মোগলহাট, কুলাঘাট, মহেন্দ্রনগর, হারাটি, খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, পঞ্চগ্রাম, বড়বাড়ী

আদিতমারী উপজেলার ইউনিয়নের নাম :
পলাশী, ভাদাই, মহিষখোচা, কমলাবাড়ী, সাপ্টিবাড়ী, সারপুকুর, ভেলাবাড়ী, দুর্গাপুর

কালীগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়নের নাম :
ভোটমারী, তুষভাণ্ডার, মদাতী, দলগ্রাম, গোড়ল, চন্দ্রপুর, চলবলা, কাকিনা

পাটগ্রাম উপজেলার ইউনিয়নের নাম :
কুচলিবাড়ী, শ্রীরামপুর,পাটগ্রাম, জগতবেড়, জোংড়া, বাউড়া, দহগ্রাম, বুড়িমারী

হাতীবান্ধা উপজেলার ইউনিয়নের নাম :
বড়খাতা, গড্ডিমারী, সিংগীমারী, টংভাঙ্গা, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী, নওদাবাস, গোতামারী, ভেলাগুড়ী, সানিয়াজান, ফকিরপাড়া

লালমনিরহাট জেলার ভাষা ও সংস্কৃতি

ভাষা

লালমনিরহাট, কালীগঞ্জ অঞ্চলের লোকসমাজে প্রচলিত ভাষার লক্ষ্যণীয় কিছু বিশেষ দিক নিম্নে প্রদত্ত হলো-

  • ক্রিয়াপদের আগে ‘না’ এর ব্যবহার। যেমন ; না খাওঁ (খাইনা), না যাওঁ (যাইনা)।
  • ‘র’ বর্ণের স্থলে ‘অ’ বর্ণ ব্যবহারের প্রবণতা। যেমন ; অং (রং), অসূণ (রসূণ)।
  • ‘ল’বর্ণের স্থলে‘ন’ বর্ণ ব্যবহারের প্রবণতা। যেমন ; নাল (লাল), নাউ (লাউ)।
  • স্থানের নামের শেষের বর্ণে এ-কার থাকলে তা তুলে দিয়ে শব্দের শেষে ‘ত’ বর্ণ যুক্তকরণের প্রবণতা। যেমন; মাঠত (মাঠে), ঘাটত (ঘাটে), হাটত (হাটে)।
  • ভবিষ্যতে স্বয়ং কর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে ক্রিয়াপদের শেষে ‘ম’ বর্ণ ব্যবহারের প্রবণতা। যেমন ; যাইম, খাইম, দেখিম।
  • সম্বোধনের ক্ষেত্রে ব্যবহুত কতিপয় শব্দের উদাহরণ হচ্ছে- মুঁই (আমি), হামরা (আমরা), তুঁই (তুমি), তোমরাগুলা (তোমরা), অঁয় (সে), ওমরা/ওমরাগুলা (তারা)।

লোকসমাজে প্রচলিত ছড়া, ছেল্লক (ধাঁধাঁ বা ছিল্কা), প্রবাদ-প্রবচন, মেয়েলী গীত, মন্ত্র, লোকসঙ্গীত প্রভৃতি লোক সাহিত্যের মূল্যবান উপাদান। এগুলোর মধ্য দিয়ে সন্ধান মিলে আবহমানকাল ধরে চলে আসা মানুষের রুচি, বিশ্বাস, আচার-আচরণ, সংস্কার, রসবোধ, সুখ-দুঃখ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদির। নিম্নে এ জেলার লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতির সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো-

সাহিত্য সংস্কৃতি

ছড়া

শিশু মনের অন্যতম খোরাক হচ্ছে-ছড়া। লোকসমাজে মায়েরা যেমন বিভিন্ন ছড়া বলতে বলেতে শিশুদের ঘুমপাড়ায়, তেমনি ছোট ছেলে-মেয়েরা খেলায় বিভিন্ন ধরণের ছড়া ব্যবহার করে থাকে। তাছাড়া অন্যকে ক্ষেপিয়ে তুলতেও এরব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। উদাহরণস্বরূপ ব্যাপক প্রচলিত কয়েকটি ছড়া নিম্নেপ্রদত্ত হলো-

ছেল্লক (ধাঁধাঁ বা ছিল্কা)

ছেল্লক গ্রাম্য সমাজে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। বুদ্ধি পরীক্ষার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অতুলনীয়। লালমনিরহাট জেলার অশিক্ষিত, অর্ধ-শিক্ষিত ও শিক্ষিত সমাজে প্রচলিত কিছু ছেল্লকের উদাহরণ নিম্নেপ্রদত্ত হলো-

অর্ধচন্দ্রে বিন্দুযুত্তু ককারে আকার

পাঠারে ভাসাইয়া দিয়া মধ্য নিবে তার

লবণের প্রথমটি তাহাতে মিশাইয়া

হইবে যাহা দিবে পাঠাইয়া।

উত্তরঃ কাঁঠাল।

প্রবাদপ্রবচন

লোকসমাজে কথায় কথায় যে সব প্রবাদ-প্রবচন ব্যবহুত হয় তা একদিকে যেমন শিক্ষনীয়, অন্যদিকে তেমনী ছন্দের অপূর্ব সমন্বয়। এ জেলার লোক-সমাজ প্রবাদ-প্রবচনের অফুরন্তভান্ডার। বিভিন্ন বিষয়ে সচরাচর যে সব প্রবাদ-প্রবচনের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়, সেগুলোর কিয়দাংশ নিম্নেপ্রদত্ত হলো-

অনুকরণ

আগা হাল য্যাদি যায়

পাছা হালও স্যাদি যায়।

লোকসঙ্গীত

এ জেলায় প্রচলিত লোকসঙ্গীতের মধ্যে ভাওয়াইয়া, পল্লীগীতি এবং বাউল সঙ্গীতই প্রধান। কুষাইন গান, কবি গান, পালাগান, সাদা পাগলার গান, গাঁথার গান প্রভৃতি লোকসঙ্গীতের আসর এখন আর খুব বেশি নজরে পড়েনা।

লালমনিরহাট জেলার শিল্প ও বাণিজ্য

লালমনিরহাটে (lalmonirhat) কোন বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি। মাত্র অল্প কয়েকটি মাঝারি আকারের শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে প্রচুর স্থানীয়পল্লীভিত্তিক কিছু কিছু ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে উঠেছে।

স্থানীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মধ্যে রয়েছে – বাঁশ (ডালি, কুলা, চালুনী, হাত পাখা, চাটাই, ডোল, গরত বা মহিষের গাড়ির ছই, মাছ ধরার বিভিন্ন যন্ত্র, গবাদি পশুর মুখের টোপর প্রভৃতি) কাঠ (পিড়ে, গছা, উরতন- গাইন, ঢেঁকি প্রভৃতি), মৃৎ (মাটির থালা, হাড়িপাতিল, কলস, হিড়া বা মটকি, কুয়ার পাঠ, খাদ্য বা ট্যাগারী, পয়সা রাখার ব্যাংক সহ বিভিন্ন ধরণের খেলনা), বেত (টালা, ডালি, ডোল, চেয়ার, মোড়া প্রভৃতি), পাট (দড়ি বা রশি, ছিকা, নুছনা, ঝুল, গবাদি পশুর মুখের টোপর প্রভৃতি), ঘাঁনি (তেল, খৈল), লৌহ (ক্যাটারী, ছুরি, চাকু, জাঁতি, দা, কাসেত, কুড়াল, কোদাল, খমতা, লাঙ্গলের ফলা, বল্লম, বর্শা, খোঁচা, তীর প্রভৃতি), সেলাই শিল্প (কাঁথা, নক্সী কাঁথা, হাত পাখা প্রভৃতি), অলংকার শিল্প (স্বর্ণ ও রৌপ্যের তৈরী গলার হার, হাতের বালা ও চুড়ি, কানের দুল, নাকের ফুল, কোমরের বিছা) প্রভৃতি । অতীতে এখানে হাড় ও শিং শিল্প এবং তাঁত শিল্প ছিল, কিমও সময়ের ব্যবধানে তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সহানীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বয়স্ক কারিগররা অনেকেই নিজেদের পূর্বপুরতষের পেশা হিসেবে এ পেশা গুলোকে ধরে রেখেছেন। কিমও তাদের বর্তমান বংশধররা ব্যবসা-চাকুরী সহ বিভিন্ন পেশার দিকে ধাবিত হচ্ছেন।

লালমনিরহাট জেলার নদ-নদী

১। তিস্তা নদী

তিস্তা লালমনিরহাটের (lalmonirhat) উপর দিয়ে প্রবাহিত প্রধান নদী। এটি ব্রহ্মপুত্রের একটি উপনদী। ভারতের উত্তর সিকিমের পার্বত্য এলাকায় এর উৎপত্তি। পার্বত্য এলাকায় এর প্রবাহ সৃষ্টি করেছে অপরুপ দৃশ্যের। লাচেন এবং লাচুং নামের দু’পর্বত স্রোতধারাই তিস্তার উৎস। এ দু’স্রোত ধারা সিকিমের চুংথাং-এ এসে মিলেছে। চুংথাংক এর ভাটিতে তিস্তা আস্তে আস্তে প্রশস্থ হতে থাকে। সিংতামে এর প্রশস্ততা ৪৩ কিলোমিটার। জলপাইগুড়ি জেলার মোট ৫৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তিস্তা নীলফামারী জেলার ডিমলা থানার ছাতনাই গ্রামের প্রায় ১ কিলোমিটার উত্তর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বাংলাদেশে ১শ ১২ কিলোমিটার পথ প্রবাহিত হয়ে তিস্তা চিলমারীর দক্ষিনে গাইবান্ধা জেলার কামারজনি মৌজায় ব্রহ্মপুত্র নদে মিলিত হয়।

 এ নদী বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের অধিকাংশ জেলা অর্থাৎ নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার উপর দিয়ে প্রভাবিত হয়। ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিস্তা ছিল উত্তরবঙ্গের প্রধান নদী। তিস্তা নদীর দুটি ব্যারেজ একটি ভারতের গজলডোবায়, অন্যটি বাংলাদেশের দোয়া নীড়ে। বুড়ি তিস্তা, ঘাঘট, মানাস, ধাইজান ইত্যাদি তিস্তার শাখা নদী ছিলো কিমতু ধীরে ধীরে উৎস  নদী থেকে এগুলো পৃথক হয়ে গেছে।

২। ধরলা নদী

ধরলা নদী বাংলাদেশ-ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। নদীটি পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। প্রবেশের পর নদীটি পাটগ্রাম থানার কাছে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়েছে এবং অকস্মাৎ বাঁক নিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বাংলাদেশ অংশে ধরলার দৈর্ঘ্য ৭৫ কিলোমিটার। এর গড় গভীরতা ১২ ফুট বা ৩.৭ মিটার এবং কুড়িগ্রামে সর্বোচ্চ গভীরতা ৩৯ ফুট বা ১২ মিটার। উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে দীর্ঘ সড়ক সেতু টি এই নদীর উপর অবস্থিত। ৯৫০ মিটার দৈর্ঘবিশিষ্ট পিসি গার্ডার সেতুটি ২য় ধরলা সেতু/ফুলবাড়ী ধরলা সেতু/ শেখ হাসিনা ধরলা সেতু নামে ২০১৮ সালে চালু হয়।

 ৩। সতীস্বর্ণামতিভাটেশ্বরী নদী

সতী-স্বর্ণামতি-ভাটেশ্বরী নদী বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের লালমনিরহাট জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৫ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ১৫০ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। 

৪। রত্নাই নদী

রত্নাই নদী বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের লালমনিরহাট জেলার একটি নদী। 

এছাড়াও লালমনিরহাট (lalmonirhat) জেলার উপর দিয়ে সানিয়াজান, সাঁকোয়া, মালদহ, ত্রিমোহিনী, গিরিধারী, ছিনাকাটা, ধলাই নদী প্রবাহিত হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলার শিক্ষা

লালমনিরহাট (lalmonirhat) জেলায় ৩৫টি কলেজ, ১৬৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৪৩টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭৮টি মাদ্রাসা, ৭৫৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, এবং প্রায় ২০০টি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে।জেলার শিক্ষার হার ৬৫%। জেলার উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠিানের মধ্যে রয়েছেঃ লালমনিরহাট সরকারি কলেজ,আদিতমারী সরকারি কলেজ, মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজ, মৌলভী আবুল হাশেমআহমেদ সিনিয়র মাদ্রাসা ,দইখাওয়া আদর্শ কলেজ,হাতীবান্ধা,সরকারি আলিমুদ্দীন কলেজ,হাতীবান্ধা,পাটগ্রাম সরকারি কলেজ,বড়খাতা ডিগ্রি কলেজ,হাতিবান্ধা মহিলা কলেজ,হাতিবান্ধা,করিম উদ্দিন সরকারি কলেজ,কালিগন্জ,চাপারহাট শামসুদ্দিন কমুরদ্দিন ডিগ্রি কলেজ, কালীগঞ্জ, হাজরানীয়া ডিগ্রি কলেজ,কালীগঞ্জ,শাখাতী উচ্চ বিদ্যালয়,চামটাহাট উচ্চ বিদ্যালয়,কে ইউ পি পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়,কালীগঞ্জ

লালমনিরহাট জেলার দর্শনীয় স্থান

  • তিস্তা ব্যারেজ
  • তিস্তা সেচ প্রকল্প
  • প্রাচীন লালমনিরহাট বিমান বন্দর
  • শালবন, হাতিবান্ধা
  • বুড়িমাড়ি জিরো পয়েন্ট
  • তিনবিঘা করিডর
  • সিন্দুর মতির দীঘি
  • কবি শেখ ফজলুল করিমের বসত ভিটা
  • তিস্তা ব্যারেজ
  • কাকিনা জমিদার বাড়ি
  • বোতল বা‌ড়ি (কালীগঞ্জ- নওদাবাস)
  • কালিবাড়ি মন্দির (পাশাপাশি স্থাপিত মসজিদ ও মন্দির)
  • তুষভাণ্ডার জমিদার বাড়ি
  • ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতি মন্দির
  • ৬৯ হিজরীর হারানো মসজিদ

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

  • শেখ ফজলল করিম(১৮৮২ বাংলা ৩০শে চৈত্র ১২৮৯ – সেপ্টেম্বর ২৮, ১৯৩৬) একজন স্বনামধন্য বাঙালি সাহিত্যিক
  • ফকিরমজনু শাহ
  • আসাদুল হাবিব দুলু(রাজনীতিক, সাবেক উপমন্ত্রী)
  • মুসা ইব্রাহিম

 বিঃদ্রঃ এখানে দেওয়া সকল তথ্য ইন্টারনেট এর বিভিন্ন তথ্যমূলক ওয়েবসাইট ও স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে সংগ্রহ করে দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো তথ্যে ভুল থাকে তাহলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সঠিক তথ্য দিয়ে ভুল টা সংশোধন করার জন্য আমাদের সাহায্য করবেন এবং এই তথ্য টি পরে যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে তথ্যটি শেয়ার করবেন ।

তথ্যসূত্র:
স্থানীয় লোকজন
https://bn.wikipedia.org

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here