নেত্রকোণা জেলার পরিচিতি

0
52

এক নজর এ নেত্রকোণা জেলা (netrokona)

নেত্রকোণা জেলা  (netrokona) বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ময়মনসিংহ বিভাগের একটি প্রশাসনিক এলাকা। এখানে রয়েছে পাহাড়ি জলপ্রপাত, চীনা মাটির পাহাড়, নদী, খাল, বিল। এই জেলার উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, দক্ষিণে কিশোরগঞ্জ জেলা, পূর্বে সুনামগঞ্জ জেলা, পশ্চিমে ময়মনসিংহ জেলা

নেত্রকোণা জেলার পটভূমি

নেত্রকোণা জেলার ইতিহাস ঐতিহ্যঃ

ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত নেত্রকোণা জেলার (netrokona) ইতিহাস প্রাচীন ঐতিহ্যে টই-টুম্বুর ও  ঐতিহ্যের বিচিত্র ঘটনা সম্ভারে গর্বিত। বিভিন্ন তাত্ত্বিক পর্যালোচনায় স্পষ্টতঃ প্রমাণ করে যে সাগর বা সমুদ্রগর্ভ থেকে জেগে ওঠায় এ অঞ্চলটি মানব বসবাসের যোগ্য ভূমিতে পরিণত হয়েছিল। গারো পাহাড়ের পাদদেশ লেহন করে এঁকেবেঁকে কংস, সোমেশ্বরী, গণেশ্বরী, মহেশ্বরী, গোরাউৎরা নদীসহ অন্যান্য শাখা নদী নিয়ে বর্তমান নেত্রকোণা (netrokona) জেলার জলধারার উদ্ভব। এ জেলার প্রত্যেক নদীই জেলার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত। ফলে সমগ্র জেলার ভূমি উত্তরাংশে উঁচু এবং ক্রমে দক্ষিণ-পূর্বাংশে ঢালু।

খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতে এ অঞ্চল গুপ্ত সম্রাটগণের অধীন ছিল। ইতিহাস পাঠে জানা যায়, গুপ্তযুগে সমুদ্রগুপ্তের অধীনস্থ এ অঞ্চলসহ পশ্চিম ময়মনসিংহ কামরূপ রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে হিন্দুরাজ শশাংকের আমন্ত্রণে চৈনিক পরিব্রাজক হিউ এন সাঙ যখন কামরূপ অঞ্চলে আসেন, তখন পর্যন্ত নারায়ণ বংশীয় ব্রাহ্মণ কুমার ভাস্কর বর্মণ কর্তৃক কামরূপ রাজ্য পরিচালিত ছিল। খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে পূর্ব ময়মনসিংহের উত্তরাংশে পাহার মুল্লুকে বৈশ্যগারো ও দুর্গাগারো তাদের মনগড়া রাজত্ব পরিচালনা করতো। ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষ দিকে জনৈক মুসলিম শাসক পূর্ব ময়মনসিংহ অঞ্চল আক্রমণ করে অল্প কিছুদিনের জন্য মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। অতঃপর চতুর্দশ শতাব্দীতে জিতারা নামক জনৈক সন্ন্যাসী কর্তৃক কামরূপের তৎকালীন রাজধানী ভাটী অঞ্চল আক্রান্ত ও অধিকৃত হয়। সে সময় পর্যন্তও মুসলিম শাসক ও অধিবাসী স্থায়ীভাবে অত্রাঞ্চলে অবস্থান ও শাসন করতে পারেনি। খ্রিস্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে আলাউদ্দিন হোসেন শাহের শাসনামলে (১৪৯৩-১৫১৯) সমগ্র ময়মনসিংহ অঞ্চল মুসলিম রাজত্বের অন্তর্ভূক্ত হয়।

আলাউদ্দিন হোসেন শাহ’র পুত্র নসরৎ শাহ’র শাসনামলে (১৫১৯-১৫৩২) দু’একবার বিদ্রোহ সংঘটিত হলেও বিদ্রোহীরা সফল হয়নি। সমগ্র ময়মনসিংহ অঞ্চলেই নসরৎ শাহ’র শাসন বলবৎ ছিল। নসরৎ শাহ’র পদচিহ্ন লোপ পেলেও তার অনেক স্মৃতিচিহ্ন কালের সাক্ষী হয়ে আছে। নসরৎ শাহ-র উত্তরাধিকারীরা (১৫৩৩-১৮৩৮) কিংবা তার পরবর্তী লক্ষ্মণাবতীর অন্য শাসকেরা ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপর আধিপত্য বজায় রাখতে পারেনি। ময়মনসিংহের উত্তরাংশ কোচদের পুনরাধীন হয়ে পড়ে। বাকী অংশ দিল্লীর পাঠান সুলতান শেরশাহ-র (১৫৩৯-১৫৪৫) শাসনভুক্ত হয়েছিল। তৎপুত্র সেলিম শাহ’র শাসনের সময়টি (১৫৪৫-১৫৫৩) ছিল বিদ্রোহ ও অস্থিরতায় পূর্ণ। রাজধানী দিল্লী থেকে অনেক দূরে ও কেন্দ্রীয় রাজশক্তির দূর্বলতার সুযোগে প্রধান রাজস্ব সচিব দেওয়ান সুলায়মান খাঁ (যিনি পূর্বে কালিদাস গজদানী নামে পরিচিত ছিলেন) সম্রাটের বিরুদ্ধাচরণ করেন। এতে করে দেশী ও বিদেশী রাজ্যলিপ্সুরা এতদঞ্চল দখলের প্রয়াস পায়। এর মধ্যে ভাটী অঞ্চল (পূর্ব-উত্তরাংশ) সোলায়মান খাঁ-র দখলভুক্ত ছিল। কেন্দ্রীয় শাসকের প্রেরিত সৈন্যদের হাতে সোলায়মান খাঁ নিহত হলেও তার দু’পুত্রের মধ্যে জ্যেষ্ঠ পুত্র ঈশা খাঁ খিজিরপুর থেকে ভাটী অঞ্চলে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। ১৫৯৯ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে ঈশা খাঁ’র মৃত্যুর পর তৎপুত্র মুসা খাঁ ও আফগান সেনা খাজা উসমান খাঁ কর্তৃক অত্রাঞ্চল শাসিত ছিল। সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে (১৬০৫-১৬২৭) সমগ্র ময়মনসিংহ অঞ্চল মোঘল সাম্রাজ্যভুক্ত হয়।

মোগল সেনাদের যুদ্ধ কৌশল জনিত কারণে অনেক দূর্গ প্রতিষ্ঠা হয়। এছাড়া পূর্ববর্তী শাসকদের তৈরী ভগ্নদুর্গও তারা সংস্কার সাধন করে ব্যবহার করেছিল। ওই সকল ঐতিহাসিক যুদ্ধদূর্গের ধ্বংসাবশেষ এখনো দেখা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রোয়াই বাড়ি দূর্গ যা পরবর্তীকালে ঈশা খাঁ’র পারিষদ মসজিদ জালাল এর আবাস বাটী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নেত্রকোণা সদরের অদূরে পুকুরিয়ার ধ্বংস প্রাপ্ত দূর্গসহ অনেক নিদর্শন মাটি চাপায় হারিয়ে গেছে। এরপরও কিছু নিদর্শন এখানকার ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে। পাশাপাশি সে সময়কার শাসকদের অনেক জনহিতকর কাজের সন্ধান পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখ্য খোঁজার দিঘী নামে পরিচিত জলাশয়গুলো। অনেকে মনে করেন খাজাদের জায়গীর ভূমিতে জনহিতকর কাজের অন্যতম পানীয় জল ব্যবস্থায় খাঁ দিঘীগুলো খনন করেছিলেন। তাই খোয়াজ খাঁ’র দিঘী থেকে খোজার দিঘী। এর ভিন্ন মতামতও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন খাজা উসমান খাঁ’র দিঘী থেকে খাজার দিঘী, সে থেকে খোজার দিঘী নামে পরিচিতি পায়। তৎকালীন সুসঙ্গ, নাসিরূজিয়াল, মৈমনসিংহ, সিংধা ও খালিয়াজুরী পরগণার ভূমি নিয়ে বর্তমান নেত্রকোণা জেলার (netrokona) অবস্থান।

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮০ খিস্টাব্দে নেত্রকোণা (netrokona) মহকুমা মঞ্জুর করে (কারণসমূহ নেত্রকোণা সদর অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে)। ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ৩ জানুয়ারি থেকে নেত্রকোণা মহকুমার কার্য শুরু হয়। ব্রিটিশ আমলে এ জেলায় কৃষক বিদ্রোহ, পাগলপন্থী বিদ্রোহ, টংক আন্দোলন ও তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়। ১৯৪৫ সালে জেলা সদরের নাগড়ায় তিনদিনব্যাপী সর্বভারতীয় কৃষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

পাকিস্তান আমলে নেত্রকোণা (netrokona) মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করার জন্য গণদাবী ওঠে। সে দাবী পূরণের লক্ষ্যে ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে সরকার কেন্দুয়ায় জেলা সদর স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করেছিল। কিন্তু সরকারের সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১৭ জানুয়ারি নেত্রকোণা মহকুমাকে জেলা ঘোষণা করা হয়। (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জারিকৃত প্রজ্ঞাপন নম্বর-এস-আর, ও ১৭-এল/৮৪/এম,ই,আর(জ,এ-২)/২৬৪/৮৩-৩০)। একই খ্রিস্টাব্দের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে নব প্রতিষ্ঠিত জেলার কার্যক্রম শুরু হয়।

নেত্রকোণার (netrokona) স্বাধীনচেতা জনগোষ্ঠী ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের সারাংশ শুনেই অনুধাবন করতে পেরেছিল তাদের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে যেতে হবে। তাই মুক্তিযুদ্ধের জন্য নেত্রকোণাবাসীর প্রস্তুতি গ্রহণে বেশি সময় ব্যয় হয়নি। ৭ মার্চ এর পর থেকেই নেত্রকোণার প্রত্যেক থানা শহরগুলোতে যুদ্ধে যাবার জন্য যুব সমাজ উদগ্রীব হয়ে ওঠে। প্রতিদিন থানা পর্যায়ে গ্রামগুলো থেকে হাজার হাজার মানুষ সশস্ত্র মিছিল করে আসতে থাকে। নেত্রকোণা শহরসহ থানা শহরগুলোর রাজনৈতিক প্রজ্ঞাবান মানুষগুলোও নীতি নির্ধারণের কাজ শুরু করে দেন। নেত্রকোণার রণাঙ্গনগুলোর দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায় তৎকালীন নেত্রকোণা মহকুমার ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাৎ বরণ করেছেন। নেত্রকোণা মহকুমার মুক্তিযোদ্ধাগণ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানের অনেক মুক্তিযোদ্ধা নেত্রকোণার বিভিন্ন রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন এবং অনেকে শহীদ হয়েছেন। তেমনি দেশের বিভিন্ন জেলার রণাঙ্গনগুলোতে নেত্রকোণা মুক্তিযোদ্ধারাও যুদ্ধ করেছেন এবং অনেকে শহীদ হয়েছেন।

ভৌগলিক পরিচিতি

নেত্রকোণা (netrokona) জেলা ২৪৩৫’থেকে ২৫১০’উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০৩০’থেকে৯১১৫’পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। এ জেলার পশ্চিমে ময়মনসিংহ, পূর্বে সুনামগঞ্জ, দক্ষিণে কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ, উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্য অবস্থিত।

নামকরণের ইতিহাসঃ নেত্রকোণা (netrokona) বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার অংশ। এক সময় এটি ময়মনসিংহ জেলার কালিগঞ্জ থানা নামে পরিচিত ছিল। শহর থেকে ৭/৮ কিঃমিঃ উত্তর পশ্চিমে নাটরকোণা নামক স্থানে ইংরেজরা সর্বপ্রথম জরিপ চালায় এবং নাটরকোণাতেই মহকুমা সদর স্থাপিত হয়। ইংরেজদের বিকৃত উচ্চারণের বদৌলতে প্রথম দিকে নাটরকোণা নামটি পরবর্তীতে নেত্রকোণায় রূপান্তরিত হয়। কেউ কেউ মনে করেন শহরের মধ্য দিয়ে প্রবহমান মগরা নদীর বাঁকটি চোখের বাঁকের মত সেজন্য নামাকরণ করা হয়েছে নেত্রকোণা।

নেত্রকোণা জেলার তথ্যাবলী

আয়তন ২,৮১০ বর্গ কিঃ মিঃ
জনসংখ্যা ২২,২৯,৪৬৪ জন, পুরুষ-১১,১১,৩০৬জন, মহিলা-১১,১৮,৩৩৬জন (২০১১ সালের আদম শুমারী অনুযায়ী)
উপজেলা ১০ টি
পৌরসভা ০৫ টি (১.নেত্রকোণা, ২.মোহনগঞ্জ,  ৩.দূর্গাপুর, ৪. কেন্দুয়া, ও ৫.মদন)।
ইউনিয়ন ৮৬ টি
সীমান্তফাঁড়ি ০৮ টি
গ্রাম ২,২৯৯ টি
কৃষি ৪,৭৩,০০০.০০ একর

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ

           নেত্রকোণা জেলার অভ্যন্তরীণ মানচিত্র

নেত্রকোণা জেলা ১০টি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত; এগুলো হলোঃ

  • আটপাড়া,
  • কলমাকান্দা,
  • কেন্দুয়া,
  • খালিয়াজুড়ি,
  • দুর্গাপুর,
  • নেত্রকোণা সদর,
  • পূর্বধলা,
  • বারহাট্টা,
  • মদনএবং
  • মোহনগঞ্জ।

নেত্রকোণা সদর উপজেলার ইউনিয়ন গুলোর নাম 
মৌগাতি ইউনিয়ন,মেদনী ইউনিয়ন,ঠাকুরাকোণা ইউনিয়ন,রৌহা ইউনিয়ন, নেত্রকোণা সদর,চল্লিশা ইউনিয়ন,আমতলা ইউনিয়ন,কাইলাটি ইউনিয়ন,লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন,দক্ষিণ বিশিউরা ইউনিয়ন,মদনপুর ইউনিয়ন, কালিয়ারা গাবরাগাতি ইউনিয়ন,সিংহের বাংলা ইউনিয়ন,

আটপাড়া উপজেলার ইউনিয়ন গুলোর নাম 
বানিয়াজান ইউনিয়ন,শুনুই ইউনিয়ন,স্বরমুশিয়া ইউনিয়ন,সুখারী ইউনিয়ন,তেলিগাতি ইউনিয়ন,লুনেরশ্বর ইউনিয়ন,দোয়জ ইউনিয়ন

কলমাকান্দা উপজেলার ইউনিয়ন গুলোর নাম 
কলমাকান্দা ইউনিয়ন,নাজিরপুর ইউনিয়ন, লেঙ্গুরা ইউনিয়ন,রংছাতি ইউনিয়ন,কৈলাটি ইউনিয়ন,খারনৈ ইউনিয়ন,পোগলা ইউনিয়ন,বরখাপন ইউনিয়ন

কেন্দুয়া উপজেলার ইউনিয়ন গুলোর নাম 
আশুজিয়া ইউনিয়ন,দল্পা ইউনিয়ন,গড়াডোবা ইউনিয়ন,গন্ডা ইউনিয়ন,সান্দিকোণা ইউনিয়ন,মাস্কা ইউনিয়ন,বলাইশিমূল ইউনিয়ন,নওপাড়া ইউনিয়ন,কান্দিউড়া ইউনিয়ন,চিরাং বাজার ইউনিয়ন,রোয়াইলবাড়ী ইউনিয়ন,পাইকুড়া ইউনিয়ন,মোজাফরপুর ইউনিয়ন

খালিয়াজুড়ি উপজেলার ইউনিয়ন গুলোর নাম 
মেন্দিপুর ইউনিয়ন,চাকুয়া ইউনিয়ন,খালিয়াজুরী ইউনিয়ন,নগর ইউনিয়ন,কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন, গাজীপুর ইউনিয়ন

দুর্গাপুর উপজেলার ইউনিয়ন গুলোর নাম 
কুল্লাগড়া ইউনিয়ন,দুর্গাপুর ইউনিয়ন, দুর্গাপুর,চন্ডিগড় ইউনিয়ন,বিরিশিরি ইউনিয়ন,বাকলজোরা ইউনিয়ন,কাকৈরগড়া ইউনিয়ন,গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়ন

পূর্বধলা উপজেলার ইউনিয়ন গুলোর নাম 
বৈরাটি ইউনিয়ন,জারিয়া ইউনিয়ন,আগিয়া ইউনিয়ন,বিশকাকুনি ইউনিয়ন,খলিশাউড় ইউনিয়ন,গোহালাকান্দা ইউনিয়ন,নারান্দিয়া ইউনিয়ন,হোগলা ইউনিয়ন,ঘাগড়া ইউনিয়ন, পূর্বধলা ইউনিয়ন,ধলামুলগাঁও ইউনিয়ন

বারহাট্টা উপজেলার ইউনিয়ন গুলোর নাম
বাউসী ইউনিয়ন,সাহতা ইউনিয়ন,বারহাট্টা ইউনিয়ন,আসমা ইউনিয়ন,চিরাম ইউনিয়ন,সিংধা ইউনিয়ন,রায়পুর ইউনিয়ন,

মদন উপজেলার ইউনিয়ন গুলোর নাম
মদন ইউনিয়ন,গোবিন্দশ্রী ইউনিয়ন,তিয়শ্রী ইউনিয়ন,মাঘান ইউনিয়ন,ফতেপুর ইউনিয়ন,চানগাঁও ইউনিয়ন,নায়েকপুর ইউনিয়ন,কাইটাইল ইউনিয়ন

মোহনগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন গুলোর নাম
বড়কাশিয়া বিরামপুর ইউনিয়ন,বড়তলী বানিয়াহারী ইউনিয়ন,তেতুলিয়া ইউনিয়ন,মাঘান সিয়াধার ইউনিয়ন,সমাজ সহিলদেও ইউনিয়ন,সুয়াইর ইউনিয়ন,গাগলাজুর ইউনিয়ন

ভাষা ও সংস্কৃতি

নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাওর, বন-জঙ্গলেরজনপদ ছিল সমগ্র নেত্রকোণা। লোক সাহিত্য সংগ্রাহক ও গবেষকদের মতে পূর্বময়মনসিংহ হলো লোক ও সাহিত্য সংস্কৃতির এক তীর্থ ভূমি। নেত্রকোণার (netrokona) সন্তানচন্দ্র কুমার দে সংগৃহীত এবং ড. দীনেশ চন্দ্র সেন সম্পাদিত বিশ্ব নন্দিতগ্রন্থ মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশের পর থেকে পূর্ব ময়মনসিংহকে অনেক গবেষকমৈমনসিংহ গীতিকা অঞ্চল বলেও চিহ্নিত করে থাকেন। এই মৈমনসিংহ গীতিকা অঞ্চলেরসীমানা চিহ্নিত করা হয়-উত্তরে গারো পাহাড়, দক্ষিণে মেঘনা, যমুনাসঙ্গমস্থল, পশ্চিমে ব্রহ্মপুত্র নদ এবং পূর্বে সুরমা কুশিয়ারা নদী। এইমৈমনসিংহ গীতিকা অঞ্চলের লোক সাহিত্য সংস্কৃতি, ভোগলিক ও ঐতিহাসিকবিচার-বিশ্নেষণের কেন্দ্র বিন্দু হলো নেত্রকোণা।

ব্যবসাবাণিজ্য

ধান, গম, পাট, আলু ইত্যাদি প্রধান ফসল হওয়া সত্ত্বেও বড় ধরণের কোন আড়ত এখানে নেই। কতিপয় ব্যক্তি ছোট ছোট বাজার থেকে এ সম্পদ সংগ্রহ করে সড়ক ও নৌপথে পরিবহণ করে থাকেন। ফলে উৎপাদক তার ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েই যাচ্ছেন।  দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় শিল্প কারখানার দিক থেকে সবচেয়ে অনগ্রসর ও পশ্চাৎপদ হিসেবে নেত্রকোণা জেলার অবস্থান। কোথাও কোন ভারী শিল্প কারখানা আজও প্রতিষ্ঠা লাভ করেনি। গুটি কয়েক চাউল কল ব্যতীত উল্লেখযোগ্য শিল্প কারখানা এ জেলায় নেই। কৃষি নির্ভর এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এখানে গড়ে ওঠেনি কোন হিমাগার। এখানে শ্রম বাজার অত্যন্ত কম। এ খাতে বিনিয়োগ করা হলে এলাকার জনসাধারণের কৃষিপণ্য উৎপাদনে আরও উৎসাহ ও প্রেরণা বৃদ্ধি পাবে।

জেলার ৫২% এর অধিক লোক কৃষিকাজে নির্ভরশীল হওয়ায় আবাদ মৌসুমে ব্যস্ত সময় অতিক্রম করলেও বাকী সময় অলস জীবন যাপন করেন। বাকী সময়ে তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হলে একদিকে যেমন তাদের জীবনে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আসতো অন্যদিকে দেশের প্রবৃদ্ধির হারও বৃদ্ধি পেতো।

এ জেলার আরো একটি প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে তা হলো মৎস্য সম্পদ। বিরল প্রজাতির ও অত্যান্ত পুষ্টিকর বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। যার কোন চাষাবাদ করা হয়না। অসংখ্য নদ-নদী, হাওর, বিল ও ডোবায় এ মাছ পাওয়া যায়। এছাড়া জেলার দূর্গাপুর উপজেলার পাহাড়ে সাদা মাটি পাওয়া যায় যা সিরামিক পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়। সাদা মাটি এবং উৎকৃষ্ট বালির ব্যবসায় অনেকে জড়িত।

জেলার একমাত্র বিসিক শিল্প নগরী প্রতিষ্ঠিত হলেও এখানে আজ পর্যন্ত মাত্র একটি শিল্প কারখানা গড়ে ওঠলেও বাকি সকল শিল্প প্লট খালি রয়েছে। বিসিক শিল্প নগরীকে কার্যকর করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হলে জেলার বেকার সমস্যা নিরসনে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখবে। জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে নারী-পুরুষ কুটির শিল্পে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের নিজস্ব বসত ভিটায় নির্মাণ করছেন অত্যন্ত সমাদৃত নক্শী কাঁথা, ওয়ালমেট, শাড়ীর নক্শা ও বিভিন্ন রকম হস্তপণ্য। গুটি কয়েক এনজিও এ কাজে নামমাত্র পৃষ্ঠপোষকতার ছোঁয়া রেখে চলেছে।

খনিজ সম্পদ

প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত এ ভান্ডারে রয়েছে সাদামাটি (হোয়াইট ক্লে) এবং অবকাঠামো নির্মাণ সহ কাঁচ তৈরির একমাত্র উপযুক্ত সিল্কী বালু। সাদামাটি (হোয়াইট ক্লে)দূর্গাপুর উপজেলায় অবস্থিত। এ মাটি দিয়ে সিরামিক জাতীয় সামগ্রী নির্মাণ করা হচ্ছে। খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান/কোম্পানী এ মাটি উত্তোলন করছে। জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের কোন নিয়ন্ত্রণ না থাকায় কি পরিমাণ সাদামাটি উত্তোলন করা হচ্ছে তার প্রকৃত চিত্র কখনও পাওয়া যাচ্ছেনা।

জেলার দূর্গাপুর, কলমাকান্দা ও নেত্রকোণা সদর উপজেলায় সায়রাতভূক্ত ৭টি বালুমহাল রয়েছে। প্রাপ্ত সিলিকা বালু অবকাঠামো নির্মাণ ও কাঁচ নির্মাণে অত্যন্ত সহযোগি হওয়া সত্ত্বেও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাতে হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটালে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি হতো এবং গড় আয় বৃদ্ধি পেতো।

সম্প্রতি নেত্রকোণা ও সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে।

নদ-নদী ও হাওড়

নেত্রকোণা (netrokona) জেলা নদী ও হাওড় বেষ্টিত । এর বুকচিড়ে বয়ে চর্তুদিক হতে উপজেলাগুলিকে জড়িয়ে আছে বিভিন্ন নদী ও হাওড় । এ বিস্তীর্ণ জলরাশি দিয়ে প্রতিদিন শতশত কার্গো, ট্রলার যোগাযোগে পাথর, কয়লা, বালু সারা দেশেরপ্তানি হয়ে থাকে এবং নদী নিয়ে প্রতিদিন লঞ্চ বিভিন্ন জায়গায় চলাচল করে।

সোমেশ্বরী নদী
ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড়ের বিঞ্চুরীছড়া, বাঙাছড়া প্রভৃতি ঝর্ণাধারা ও পশ্চিম দিক থেকে রমফা নদীর স্রোতধারা একত্রিত হয়ে সোমেশ্বরী নদীর সৃষ্টি।  অবশ্য এক সময় সমগ্র নদীটি সিমসাং নামে পরিচিত ছিল। ৬৮৬ বঙ্গাব্দের মাঘ মাসে সোমেশ্বর পাঠক নামে এক সিদ্ধপুরুষ অত্রাঞ্চল দখল করে নেয়ার পর থেকে নদীটি সোমেশ্বরী নামে পরিচিতি পায়। গারো পাহাড় অঞ্চলে গারো সমাজ সচেতন হওয়ার পর থেকে তারা আবারো সোমেশ্বরী নামের পরিবর্তে সিমসাং ডাকতে শুরু করেছে।

মেঘালয় রাজ্যের বাঘমারা বাজার (পূর্ব নাম বঙ বাজার) হয়ে বাংলাদেশের রাণীখং পাহাড়ের কাছ দিয়ে সোমেশ্বরী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। রাণীখং পাহাড়ের পাশ বেয়ে দণি দিক বরাবর শিবগঞ্জ বাজারের কাছ দিয়ে  সোমেশ্বরী নদী বরাবর পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়। কলমাকান্দা, মধ্যনগর হয়ে ধনু নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে সোমেশ্বরী। সোমেশ্বরীর মূলধারা তার উৎসস্থলে প্রায় বিলুপ্ত। বর্ষা মৌসুম ছাড়া অন্য কোন মৌসুমে পানি প্রবাহ থাকেনা। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে পাহাড়ীয়া ঢলে সোমেশ্বরী বরাবর দণি দিকে প্রবাহিত হয়ে নতুন গতিপথের সৃষ্টি করেছে। যা স্থানীয় ভাবে শিবগঞ্জ ঢালা নামে খ্যাত। বর্তমানে এ ধারাটি সোমেশ্বরীর মূল স্রোতধারা। এ স্রোতধারাটি চিতলির হাওর হয়ে জারিয়া-ঝাঞ্জাইল বাজারের পশ্চিমদিক দিয়ে কংস নদী সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ১৯৮৮ সালে পাহাড়ীয়া ঢলে আতরাখালী নামেসোমেশ্বরী নদীর একটি শাখা নদীটির সৃষ্টি হয়। সুসঙ্গ দুর্গাপুর বাজারের উত্তর দিক দিয়ে সোমেশ্বরী নদী থেকে পূর্বদিকে  প্রবাহিত হয়েছে আতরাখালী । কিছু দূর এগিয়ে সোমেশ্বরীর মূলধারা সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আতরাখালী  নদী এখন বেশ খরস্রোতা। আরো ভাটিতে সোমেশ্বরীর শাখা নদীর সৃষ্টি হয়েছে গুনাই, বালিয়া ও  খারপাই।

 কংস নদী
ভারতের তুরা পাহাড়ে বিভিন্ন ঝর্ণার সম্মিলনে কংস নদীর উৎপত্তি। শেরপুরের হাতিবাগার এলাকা দিয়ে কংস বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। উৎপত্তি স্থল থেকে  শেরপুরের নালিতাবাড়ী পর্যন্ত এ নদীটির নাম ভূগাই। নালিতাবাড়ীর ৫মাইল ভাটিতে এসে দিংঘানা, চেল্লাখালী, দেওদিয়া মারিসি, মলিজি নামে উপনদী গুলো ভূগাইয়ের মিলিত হয়েছে। ভূগাই সে স্থানে বেশ খরস্রোতা হলে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে ফুলপুরের কাছাকাছি এসে খড়িয়া নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। খড়িয়া ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।ফুলপুর উপজেলার পর থেকে ভূগাই নদীটি কংস নামে খ্যাত।মেঘালয় থেকে শিববাড়ীর পাশ দিয়ে নিতাই নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ধোবাউড়া সদর হয়ে দুর্গাপুরের শঙ্করপুরের কাছে নিতাই কংস নদীতে মিলিত হয়েছে। এতে কংস তার পূর্ব পথের গতির চেয়ে অনেকাংশে বেড় গেছে। নেত্রকোণা জেলার ভেতরে পূর্বধলা উপজেলায় কংসের দৈঘ্য ৯ মাইল। দুর্গাপুর, ধৌবাউড়া ও পূর্বধলা উপজেলার সীমানা বরাবর ২০ মাইল। নেত্রকোণা সদর উপজেলায় ৬ মাইল। নেত্রকোণা সদর, বারহাট্টা সীমানা বেয়ে ৭ মাইল। বারহাট্টা উপজেলায় কংসের দৈঘ্য ১১ মাইল। বারহাট্টা, মোহনগঞ্জ সীমানা বেয়ে ৬ মাইল। মোহনগঞ্জ ও  সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার সীমানা বরাবর ১৯ মাইল প্রবাহিত হয়ে ঘোরাউৎরা নদীতে মিলিত হয়েছে। নেত্রকোণা (netrokona) জেলার ভেতর অনেক শাখা নদী কংস নদী থেকে বেরিয়ে  দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে। পূর্বধলার সীমানোয় কংস থেকে একটি শাখা নদী দণি দিকে ছুটে গিয়ে ধলাই নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। যা কালিহর নদী নামে পরিচিত। কালিহর এর শাখা নদী খানিগাঙ। এক সময় খানিগাঙ বেশ খরস্রোতা ছিল। এখর মরাগাঙ। এর মধ্যে জারিয়া বাজারের পূর্বদিক দিয়ে শলাখালী শাখা নদীটি বেরিয়ে ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের ভেতরদিয়ে লাউয়ারী নামে ত্রিমোহনীতে এসে মগড়া নদীতে পতিত হয়েছে। নেত্রকোণার পূর্ব ইউনিয়ন ঠাকুরাকোণা বাজারের পাশদিয়ে বরাবর দক্ষিণাদিকদিয়ে আটপাড়া উপজেলার পাশে এসে মগড়া নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।শুষ্ক মৌসুমে এ নদীটিতে তেমন পানি প্রবাহ থাকেনা। বর্ষায় বেশ থরস্রোতাহয়।

ধনুনদী
কোন স্থানে এ নদী বৌলাই কোন  স্থানে ঘোরাউৎরা নামে পরিচিত। এটি মেঘনা নদীর অন্যতম উপ নদী। এর উৎপত্তিস্থল ভারতের মেঘালয় রাজ্যে। মেঘালয়ের যাদুকাটা ও ধোমালিয়া এ দুটি নদী একত্রিত হয়ে ধনু নদীর মূল  প্রবাহেরসৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তে এসে এর একাংশ সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর হয়ে দক্ষিণেচলতে শুরু করেছে। তাহিরপুরে সোমেশ্বরী এসে ধনু নদীতে পতিত হয়েছে। এ নদীটি মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী হয়ে কিশোরগঞ্জে মেঘনার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এ নদীটির প্রথমাং ধনু, মধ্যভাগ বৌলাই, শেষাংশ ঘোরাউৎরা নামে মেঘনায় পতিত হয়। ধনু একটি খরস্রোতানদী। নেত্রকোণা জেলার প্রায় সব কটি নদীই এ নদীতে পতিত হয়ে ভাটিতে গেছে।

মগড়া নদী
ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে মগড়ার উৎপত্তি। সেনেরচর নামক স্থান থেকে খড়িয়া নদী বেয়ে সারাসরি মগড়া নদীর প্রবাহ। সে প্রবাহ ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বুড়বুড়িয়া বিলে এসে পতিত হয়েছে। বুড়বুড়িয়া বিল  থেকে বেরিয়ে গজারিয়া ও রাংসা নদীর স্রোতের সঙ্গে মিলিত হয়ে ফুলপুরের ঢাকুয়া নামক স্থানের ভেতর দিয়ে সরাসরি পূর্বদিকে ধলাই নামে প্রবাহিত হয়েছে। পূর্বধলা উপজেলার হোগলা বাজারের পাশ দিয়ে পূর্বধলা সদরের ভেতর দিয়ে ত্রিমোহনী নামক স্থানে এসে দক্ষিণেপ্রবাহিত হয়েছে। ত্রিমোহনীতে এসে ধলাইয়ের সঙ্গে উত্তর দিক থেকে এসে লাউয়ারী নদী  মিলিত হয়েছে। সে স্থান থেকে মগড়া নামে পরিচিত। সেখান থেকে প্রথমে পাঁচ মাইল পর্যন্ত দক্ষিণেদিকে প্রবাহিত হয়ে দয়াগঞ্জ ঘাট থেকে সরাসরি পূর্ব দিকে আকাঁবাকা হয়ে নেত্রকোণা শহরের পাশ দিয়ে আটপাড়া উপজেলার দিকে চলে গেছে। পশ্চিম দিক থেকে শ্যামগঞ্জ হয়ে দয়াগঞ্জ ঘাটের কাছে মগড়ার সঙ্গে ধলাই নামের একটি স্রোতধারা মিলিত হয়েছে।নেত্রকোণা জেলার  ঠাকুরাকোণা থেকে কংস নদী একটি শাখা নদী আটপাড়ায় মগড়ার মিলিত হয়েছে। গৌরীপুর দিক থেকে ছুটে আসা পাটকুড়া নদীটি বসুর বাজার এলাকায় এসে মগড়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সাউডুলি, মগড়া ও পাটকুড়ার মিলিত স্রোতেকেন্দুয়ার গুগবাজার কাছে এসে যোগ হয়েছে। সেখানে বর্ষায় স্রোতেপ্রবাহ আনুপাতিক হারে বেশি থাকে। গুগবাজার হয়ে সে নদীটি মদন হয়ে ধনু নদীতে পতিত হয়েছে।

নেত্রকোণা (netrokona) জেলায় মগড়া নদীর গতিপথ সব চেয়ে বেশি। এ নদীটি কোথাও  ধলাই নামে  কোথাও মগড়া নামে খ্যাত। এ জেলার  চারশ বর্গ মাইল এলাকা দিয়ে মগড়া নদীর প্রবাহ রয়েছে। মগড়া কংস নদী ৮/১০ মাইল ব্যবধানে প্রায় ৪০ মাইল সমান্তরায় ভাবে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে।

হাওর
নেত্রকোণার অন্যতম হাওর মোহনগঞ্জের ডিঙ্গাপোতা, কেন্দুয়া উপজেলার জালিয়ার হাওর। জালিয়ার হাওর একসময় জলমহালের আওতায় ছিল। প্রকৃতিক কারনে হাওর এলাকাটি ভরাট হয়ে গেছে। বর্তমানে ২টি মাত্র ২০ একরের উর্ধে জলমহাল রয়েছে।মদন উপজেলার উল্লেখযোগ্য হাওড় তলার হাওর, গনেশ্ব হাওর ও জালিয়ার হাওরের অংশ বিশেষ মদন উপজেলার আওতা। আটপাড়ার আটপাড়া উপজেলায় বাগড়ার হাওর ও গনেশ্বর হাওর উল্লেখযোগ্য।

খালিয়াজুরী উপজেলার উলেখযোগ্য নদী ধনু ও ধলাই। হাওর : কীর্ত্তনখোলা, গোবিন্দডোবা, লক্ষ্মীপুর, উত্তরবন্ধ, খৈড়তলা, লেপসিয়া ও জগনাতপুর হাওর। খালিয়াজুরী উপজেলায় ২৫টি জলমহাল রয়েছে। রোয়াইল, রানীচাপুর, ধলীমাটি, চৌতারা, চোনাই, বাজুয়াইল, মরাধনু, রতনী, জগনাতপুর গুনা, পেটনা, জগনাতপুর, খালিয়াজুরী গুনা, বেকী, ফেনী, মাকলাইন, বানোয়াইর,চেলাপাইয়া, কীর্ত্তনখোলা, মরাগাঙ, কাঠালজানা, চিনামারা, নরসিংহপুর,ছাইয়া, নাজিরপুর, মোরাদপুর জলমহাল।

প্রাকৃতিক সম্পদ

এখানে চীনামাটির পাহাড়, যার বুক চিরে জেগে উঠেছে এই নীলচে-সবুজ পানির হ্রদ। সাদা মাটির মাঝে রঙটাকে যেন আরও বেশি গাঢ় করে দিয়েছে। তবে বিরিশিরি গিয়েই আপনি এ সুন্দর দৃশ্য আপনি দেখতে পারবেন না। আপনাকে যেতে হবে আরেকটু দূর বিজয়পুর চীনা মাটির পাহাড়ে।

দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ থেকে ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে কুল্লাগড়া ইউনিয়নের আড়াপাড়া ও মাইজপাড়া মৌজায় বিজয়পুরের সাদা মাটি অবস্থিত। বাংলাদেশের মধ্যে প্রকৃতির সম্পদ হিসেবে সাদা মাটির অন্যতম বৃহৎখনিজ অঞ্চল এটি। ছোট বড় টিলা-পাহাড় ও সমতল ভূমি জুড়ে প্রায় ১৫.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৬০০ মিটার প্রস্থ এই খনিজ অঞ্চল। খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ১৯৫৭ সালে এই অঞ্চলে সাদামাটির পরিমাণ ধরা হয় ২৪ লক্ষ ৭০ হাজার মেট্রিক টন, যা বাংলাদেশের ৩ শত বৎসরের চাহিদা পুরণ করতে পারে।

সোমেশ্বরী নদী পাড়হয়ে রিক্সা বা হোন্ডায় অর্ধ কাচা-পাকা রাস্তা দিয়ে বিজয়পুরের সাদামাটি অঞ্চলে যাওয়া যায়।

চিত্তাকর্ষক স্থান

  • হযরত শাহ সুলতান কমরউদ্দিন রুমি (র) মাজার শরীফ, মদনপুর,নেত্রকোণা সদর।
  • উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী – বিরিশিরি, দুর্গাপুর উপজেলা;
  • বিজয়পুরেরচিনামাটির পাহাড় – দুর্গাপুর উপজেলা;
  • কমলা রাণীর দিঘী;
  • কমরেড মণি সিংহ-এর স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি ও স্মৃতিস্তম্ভ – দুর্গাপুর উপজেলা;
  • কুমুদীনি স্তম্ভ – দুর্গাপুর উপজেলা;
  • সোমেশ্বরী নদী- দুর্গাপুর উপজেলা;
  • ডিঙ্গাপোতা হাওর – মোহনগঞ্জ উপজেলা;
  • চরহাইজদা হাওর
  • মগড়া নদী- মদন উপজেলা।[৬]
  • কংস নদী
  • নিঝুম পার্ক
  • নারায়ণডহর জমিদার বাড়ি
  • বাঘবেড় জমিদার বাড়ি
  • সাত শহীদের মাজার- লেঙ্গুরা, কলমাকান্দা উপজেলা

বিঃদ্রঃ এখানে দেওয়া সকল তথ্য ইন্টারনেট এর বিভিন্ন তথ্যমূলক ওয়েবসাইট ও স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে সংগ্রহ করে দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো তথ্যে ভুল থাকে তাহলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সঠিক তথ্য দিয়ে ভুল টা সংশোধন করার জন্য আমাদের সাহায্য করবেন এবং এই তথ্য টি পরে যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে তথ্যটি শেয়ার করবেন ।

তথ্যসূত্র:
স্থানীয় লোকজন
https://bn.wikipedia.org

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here